স্মৃতিসৌধে অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন চার উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

369

রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারে যুক্ত নতুন চার উপদেষ্টা জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে সাভারে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে যুক্ত নতুন চার উপদেষ্টা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। এরপর স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি করে গাছের চারা রোপণ করেন।
পরে পরিকল্পনা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাফল্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৫২ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি আন্দোলনেই ছাত্ররা নতুন যুগের সূচনা করেছে। সবশেষে এবারের যে ছাত্র আন্দোলন, এটা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব আমাদের ওপরে। দোয়া করবেন, আমরা যেন সেই দায়িত্বের কিছুটা হলেও পালন করতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, “বড় একটি চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে, দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার।”
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে, রাষ্ট্রের যে প্রশাসনযন্ত্র আছে সেগুলোকে গতিশীল করা, জনগণ যেন সেবা নিতে, কল্যাণ করতে পারে সেজন্য চেষ্টা করা।”

অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন চার উপদেষ্টার শপথ গ্রহণ

শুক্রবার বিকালে বঙ্গভবনে অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন এই চার উপদেষ্টা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ নিয়োগ পাওয়া ১৭ উপদেষ্টার মধ্যে শপথ নিয়েছিলেন ১৪ জন পরে দুই দফায় শপথ নেন অপর তিন উপদেষ্টা। সবমিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়াল ২১ জন। শুক্রবার রাতেই তাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টনসহ সব উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়।

নতুন করে সরকারে যুক্ত হওয়া সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
নতুন উপদেষ্টাদের মধ্যে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে দেওয়া হয় পরিকল্পনা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনকে দেওয়া হয় পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

পুরোনো উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন
সালেহ উদ্দিন আহমেদ অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; আসিফ নজরুল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়; আদিলুর রহমান খান শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়; নাহিদ ইসলাম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যান্য উপদেষ্টাদের দায়িত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, আলী ইমাম মজুমদারকে আগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সরকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়োগের অবসান করা হয়েছে।