অবশেষে জামায়াত ও ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ

326

রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা: অবশেষে
জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলটির কার্যক্রম দ্বিতীয়বারের মতো নিষিদ্ধ হল বাংলাদেশে। এরআগে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি নিধনে পাকিস্তানের পক্ষে অস্রধারণ করায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখন স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী দলটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহারের’ জন্য। এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের জামায়াতে, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়।
দীর্ঘ দিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন মহল থেকে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি করা হলেও ভোটের রাজনীতির কারণে সরকার তা আমলে নেয়নি ।
চলমান কোটা সংস্কার ছাত্র আন্দোলনে ভর করে দেশব্যাপী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে এর নেপথ্যে জামায়াত শিবিরের ভূমিকা চিহ্নিত করে সরকার। অবশেষে বৃহস্পতিবার সরকার এক নির্বাহী আদেশ বলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে।


এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনি মতামত পাঠানোর পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং তাদের সংশ্লিষ্ট সব সংগঠন আর এই নামে রাজনীতি করতে পারবে না।
এরআগে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় জামায়াত ও এর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছিলেন সরকারের মন্ত্রীরা। এছাড়া গত ২৯ জুলাই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সভায় জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একমত হন জোটের শীর্ষ নেতারা। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে। জামায়াতের পক্ষ থেকে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল খারিজ করে দেন। ফলে দলটি নির্বাচনের অযোগ্য হয়ে যায়।
এরমধ্যে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির রায়ও কার্যকর করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। কিন্তু কয়েক বছর আগে সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হলেও পরে সে বিষয়ে আর অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ করেছে। সেই সময়ের দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিচার করার ব্যাপারেও সরকার এখন উদ্যোগ নেবে। সে জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত করার জন্যও তাঁরা পদক্ষেপ নেবেন।