ঢাকা, রূপশ্রী ডেস্ক: রিটেনের ‘দ্য ল্যানসেট’ বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মেডিকেল জার্নাল। বিশ্বের বিখ্যাত সব গবেষণা ও পিআর-রিভিউ প্রকাশনার জন্য এটি খ্যাতিমান।
এই ল্যানসেটের গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে গত ৯ মাসে গাজা অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি বা প্রায় দু’লাখ।

গত ৫ জুলাই ল্যানসেট এ বিষয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদেন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, দাপ্তরিক ভাবে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে, গাজায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চলমান অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩৮ হাজারের অধিক নিহতের যে সংখ্যা প্রচার করা হচ্ছে, তা শুধু সরাসরি যুদ্ধে নিহতের হিসাব। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর ধ্বংস্তূপের নীচে চাপা পড়া এবং গাজায় গত ৯ মাসে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে মৃতদের হিসাবে ধরা হয়নি। যদি এদেরকে ধরে নিহতের সংখ্যা হিসাব করা হয়, তাহলে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি বা প্রায় দু’লাখে পৌঁছাবে।
ল্যানসেটের প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ বাঁধলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় খাদ্য সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। ফলে যুদ্ধের সময় যারা গুলি বা গোলার আঘাতে সরাসরি নিহত হন, তাদের তুলনায় খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে মৃতের সংখ্যা থাকে বেশি।

ফলে গত ৯ মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজায় যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তাতে এই মুহূর্তে যদি যুদ্ধ বন্ধও হয়— তাহলেও আরও বেশ কিছুদিন গাজায় মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “আধুনিক যুগের যুদ্ধ-সংঘাতে গুলি বা গোলার আঘাতে যত মানুষ সরাসরি নিহত হন, পরোক্ষভাবে পরোক্ষভাবে নিহত হন তারচেয়ে তিনগুণ বা ১৫ গুণ বেশি মানুষ। একটি সাধারণ স্বীকৃত সিদ্ধান্ত হলো— প্রতি একজন সরাসরি নিহতের সঙ্গে পরোক্ষ নিহতের সংখ্যা থাকে অন্তত ৪ জন। আমরা এই হিসাবই এখানে প্রয়োগ করেছি”।

এতে আরও বলা হয়েছে, গাজার মোট জনসংখ্যা ২৩ লাখ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর চলামন অভিযানে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা হিসেবে ধরলে বলা যায়, শতকরা হিসেবে গত ৯ মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন সেখানকার মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ।
ল্যানসেট প্রতিবেদন আরো উল্লেখ করেছে যে, ‘যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব এবং বিবদমান পক্ষগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা জরুরি। আইনগত দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ”।
সূত্র :দ্য ল্যানসেট । সৌজন্যে: ঢাকা পোস্ট







