ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ডিজিটাল ঋণের যাত্রা শুরু

664

রূপশ্রী প্রতিবেদন

২২ জুলাই, ঢাকাঃ

বাংলাদেশে এই প্রথম চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল ঋণ সুবিধা। দেশের সর্ব স্তরের জনগণের মধ্যে সহজে সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জামানত বিহীন ডিজিটাল ঋণ চালু হচ্ছে।

সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ক্রমে ব্যাংক ঋণকে প্রযুক্তির সহায়তায় আরও জনমুখী করতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।

একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি সিটি ব্যাংক এবং দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ এই কার্যক্রম চালু করেছে।

প্রকল্পটির বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘আমরা সবসময় গ্রাহকের প্রয়োজনে তাদের কাছে থাকার চেষ্টা করি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেকেরই, বিশেষত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হঠাৎই অর্থের প্রয়োজন হয়। সেটি কীভাবে সহজে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় এবং তারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারেন, সেটি মাথায় রেখেই এই ডিজিটাল ঋণের যাত্রা।’

তিনি বলেন, “এই ডিজিটাল ঋণের জন্য কোনো ধরনের জামানত লাগবে না। যে কোনো সময় যে কোনো স্থান থেকে মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে সঙ্গেই সঙ্গেই এই ঋণ পাওয়া যাবে।

উদ্যোগটি সম্পর্কে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, ‘প্রান্তিকসহ সব শ্রেণির মানুষের জীবনের মানোন্নয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে বিকাশের মতো কার্যকর ডিজিটাল আর্থিক প্লাটফর্ম ও বিশাল গ্রাহক ভিত্তিকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সৃজনশীল নতুন নতুন সেবা প্রচলন করতে পারে। সিটি ব্যাংকের এই ডিজিটাল ঋণ প্রকল্প তারই একটি উদাহরণ।’

কে পাবেন এবং কিভাবে পাবেন ঋণ

প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র নির্বাচিত বিকাশ অ্যাপ গ্রাহক পাইলট প্রকল্পের আওতায় জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই ডিজিটাল ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করা হবে ।

ঋণ নেওয়ার পর তিন মাসে, সমপরিমাণ তিন কিস্তিতে নির্ধারিত তারিখে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধিত হয়ে যাবে। নির্ধারিত তারিখের আগে গ্রাহক এসএমএস এবং অ্যাপের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নোটিশ পাবেন।

পাইলট প্রকল্পে ঋণ পেতে নির্বাচিত গ্রাহকরা তাদের বিকাশ অ্যাপে ঋণ বা লোন আইকনটি দেখতে পাবেন। ঋণ নিতে গ্রাহককে তার ই-কেওয়াইসি ফরমে (নো-ইয়োর কাস্টমার ফর্ম) বিকাশে দেওয়া তথ্য সিটি ব্যাংককে দেওয়ার সম্মতি দিতে হবে। পরবর্তীতে ঋণের পরিমাণ এবং নিজের পিন দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিকাশ অ্যাকাউন্টে ঋণের টাকা পেয়ে যাবেন।  কোনও গ্রাহক ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সিটি ব্যাংক ঋণখেলাপির তথ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে। পরবর্তীতে যে কোন ধরনের ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেই এই মূল্যায়ন বিবেচিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ঋণের সঙ্গে প্রযোজ্য সুদ ও অন্যান্য বিধিবিধান প্রতিপালিত হবে।

প্রকল্পের সফল সমাপ্তি শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ক্রমে, ঋণ পাওয়ার উপযুক্ত বিকাশ গ্রাহকদের জন্য এই সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করবে সিটি ব্যাংক।

এই প্রকল্পে গ্রাহকদের ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট করবে বিশ্বখ্যাত ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্ট ফিনান্সিয়াল’। প্রতিষ্ঠানটি চীন, ভারত, ফিলিপিনস’সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ধরনের ঋণ প্রকল্পে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট সুবিধা দেয় ।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, “ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে যে কোনো মানুষের জরুরি অর্থের প্রয়োজন হলে তারা যেন তাৎক্ষণিকভাবে ন্যূনতম অর্থটি পায়, সেজন্যই আমরা বিকাশের সহায়তায় এই প্রকল্পটি চালু করেছি।”

তিনি যোগ করেন, “আমরা প্রথম দেশে এই সেবা চালু করতে পেরে গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি, আজ থেকে চার-পাঁচ বছর পর এই ডিজিটাল ঋণ সেবা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

রূপশ্রী/এমএস