৬৬ দিন পর খুলছে অফিস: গর্ভবতী নারীদের ছাড়

789

রূপশ্রী প্রতিবেদন

শনিবার (৩০ মে) ঢাকা: দীর্ঘ ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল রবিবার (৩১ মে) থেকে শর্ত সাপেক্ষে খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। ‘একইসাথে খুলেছে ব্যাংক। চালু হচ্ছে গণ পরিবহণ। অফিস পুরোদমে চালু হলেও এসময় বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের আপাতত অফিসে আসতে হবে না। এছাড়া রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে কোনও দর্শনার্থীকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। শুধু সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরাই সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। অফিসগুলো খুললেও করতে হবে মিটিং অনলাইনেই। ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল, কলেজ। সীমিত আকারে খুলবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আজ শনিবার এসব বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বলেছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত আকারে চালু হবে। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সার্বিক কার্যাবলী সম্পাদন ও চলাচলের জন্য সরকার এ অনুমোদন প্রদান করে। এসময় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও চলবে। হাটবাজার, দোকান-পাট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খালা থাকবে।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তারপর দফায় দফায় ছুটি মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২৮ মে পর্যন্ত। এরসাথে দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটিসহ সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে  আজ।

অবশ্য এর আগে গত ২৬ এপ্রিল রবিবার থেকে ছুটি বাতিল করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও পাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এসব মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ও অফিসগুলোতে সীমিত আকারে কাজ চলছে।

এছাড়া এসময় সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বাসায় অবস্থান করেও অনেক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনলাইনে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এসময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে মন্ত্রিপরিষদের তিনটি বৈঠক। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা হয়েছে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে সে সভায় সভাপতিত্ব করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি মিলনায়তন থেকে সভায় যুক্ত হন। সভায় সরকারের আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করা হয়।

সরকারি-বেসরকারি অফিস চালুর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার নিন্মোক্ত ১৩ নির্দেশনা জারি করেছে।

১. দফতরের বাইরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।

২. অফিস চালু করার আগে অবশ্যই প্রতিটি অফিস কক্ষ, আঙিনা, রাস্তাঘাট জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৩. প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগের প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্যানার, থার্মোমিটার দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে অফিসে প্রবেশ করাতে হবে।

৪. অফিস পরিবহনগুলো অবশ্যই জীবাণুনাশক দিয়ে শতভাগ জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যানবাহনে বসার সময় ন্যূনতম তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সবাইকে মাস্ক (সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা তিন স্তর বিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক, যা নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখবে) ব্যবহার করতে হবে।

৫. সার্জিক্যাল মাস্ক শুধু একবার ব্যবহার করা যাবে। কাপড়ের মাস্ক সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যাবে।

৬. যাত্রার আগে এবং যাত্রাকালে পথে বার বার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

৭. খাওয়ার সময় শারীরিক দূরত্ব (ন্যূনতম তিন ফুট) বজায় রাখতে হবে।

৮. প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

৯. অফিসে কাজ করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

১০. কর্মস্থলে সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং ঘন ঘন সাবান পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

১১. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সাধারণ নির্দেশনাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিত মনে করিয়ে দিতে হবে এবং তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ভিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১২. দৃশ্যমান একাধিক স্থানে ছবিসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনা ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

১৩. কোনও কর্মচারী অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

রূপ্রশী/এইচ,আর