সারাদেশে শুভ জন্মাষ্টমী পালিত

773

রূপশ্রী প্রতিবেদন

১২ জুলাই, ঢাকাঃ

গতকাল সারাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবছর অনাড়ম্বরভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কোনো রকম সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও মিছিল করা হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা, অনুষ্ঠান ও সব আচারবিধি পালন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘সমাজ থেকে অন্যায়-অত্যাচার, নিপীড়ন ও হানাহানি দূর করে মানুষেমানুষে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলাই ছিল শ্রীকৃষ্ণের মূল ভাবনা।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা বাঙালির হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।’

রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ ও সম্পাদক স্বামী পূর্ণাতমানন্দজী মহারাজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনা দুর্যোগে আজকে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। আমার মনে হয় না, স্মরণকালে এরকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে মানুষকে যেতে হয়েছে। এতে সারাবিশ্ব এফেক্টেড হয়ে গিয়েছে। এজন্য সবার প্রতি আমাদের মানবিক আচরণ করতে হবে। সবার ভাবের প্রতি, মতের প্রতি, সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।’

জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি করোনা থেকে সুরক্ষায় সারাদেশে রাজপথে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া নেয় এবং জন্মাষ্টমী উৎসবের খরচের অর্থ দিয়ে হতদরিদ্র, নিম্ন-মধ্যবিত্ত অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সনাতন ধর্ম মতে, অধর্ম ও দুর্জনের বিনাশ করে ধর্ম ও সুজনের রক্ষায় কৃষ্ণ যুগে যুগে পৃথিবীতে আসেন। অপশক্তির হাত থেকে শুভশক্তিকে রক্ষার জন্য শ্রীকৃষ্ণ মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসকে হত্যা করে মথুরায় শান্তি স্থাপন করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের ভাব ও দর্শন যুগ যুগ ধরে সনাতন সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। কৃষ্ণের প্রেমিকরূপের পরিচয় পাওয়া যায় তার বৃন্দাবন লীলায়, যা বৈষ্ণব সাহিত্যের মূল প্রেরণা।

রূপশ্রী/এমএম