রূপশ্রী ডেস্ক
৪ জুলাই, ঢাকা: আফ্রিকার দেশ মিশর তিন মাস লকডাউনের পর তারা খুলে দিয়েছে তাদের বিমানবন্দরগুলি। অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে গোটা বিশ্বের পর্যটকদের জন্য খুলে দিয়েছে পিরামিডসহ পর্যটন কেন্দ্র গুলো।
এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পর্যবেক্ষণ। তারা বলেছিল, দীর্ঘদিন মানুষ ‘গৃহবন্দি’ থাকতে থাকতে মানসিক ও অর্থনৈতিক ভাবে হতাশ। এ বার তারা ঘর ছেড়ে বেরোতে চান।
মিশরের পুরাতত্ত্ব বিষয়ক সুপ্রিম কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল মুস্তাফা ওয়াজিরি জানান, ১২টি মিউজিয়াম ও পর্যটনস্থলে ইতোমধ্যেই পর্যটকেরা আসতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে গিজার পিরামিড, কায়রোর ‘দ্য সিটাডেল অব সালাডিন’, কারনাকের প্রাচীন মন্দির, লাক্সরের ‘মরচুয়ারি টেম্পল অব হ্যাটশেপসুট’। তবে এসময় তিনি আরো জানান, করোনা সংক্রমণের হাত থেকে পর্যটকদের বাঁচতে যাবতীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকার চায় পর্যটনের হাত ধরেই দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে ফের চাঙ্গা করতে।
মিশরের জাতীয় বিমান সংস্থা ইজিপ্টএয়ার জানিয়েছে, ১৪টি আন্তর্জাতিক বিমানে কমপক্ষে ২ হাজার যাত্রী কায়রো বিমানবন্দর থেকে সফর করেছেন। সাড়ে তিনশোরও বেশি ইউক্রেনীয় পর্যটককে নিয়ে দু’টি বিমান নেমেছে রেড সি’র হারগাদায়। লোহিত সাগরের উপকূলে মিশরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র এটি।
এদিকে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে লকডাউন শিথিল হলেও পর্যটন পুরনো চেহারায় ফেরেনি। কিছু দেশ আন্তর্জাতিক সফর নিষিদ্ধ করছে। কিছু দেশ অনুমতি দিলেও পরামর্শ দিচ্ছে, খুব প্রয়োজন না-থাকলে বিদেশ সফর না-করতে। ফলে পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্তোরাগুলির হাল খারাপ।
আফ্রিকার পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞেরা। ‘দ্য আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ জানিয়েছে, আফ্রিকা মহাদেশের ৫৪টি দেশে ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি আক্রান্ত। যদিও করোনা-পরীক্ষা হচ্ছে খুব কম। পরীক্ষার সংখ্যা বাড়লে সংক্রমিতের সংখ্যাও বাড়বে। সব চেয়ে খারাপ অবস্থা দক্ষিণ আফ্রিকার। দেড় লাখের বেশি সংক্রমিত এ দেশেই। তার মধ্যে ২৮ শতাংশ সংক্রমণ জোহানেসবার্গে। মৃত্যু ১০ হাজারেরও বেশি।
#
রূপশ্রী/এসটি







