মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

412

রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে কী সমস্যা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (০৫ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এরআগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়াতে লোক পাঠানোর ব্যর্থতা কার জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। অনেকেই গিয়ে থাকে। কিছু লোক দালালের মাধ্যমে করে, দালালের মাধ্যমে যেতে চায়। যেতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে যায়। এতে সমস্যা তৈরি হয়।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানে সরকার সহযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সরকার বিশেষ ফ্লাইট চালু করেছিল। অন্যান্য ফ্লাইটের সঙ্গে সংযুক্ত করে সবাইকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অনেকেই বাদ পড়ে গেছে। বাদ পড়ার কারণ কি সেটা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যখনই আমরা আলোচনা করে ঠিক করি কত লোক যাবে, কীভাবে যাবে। তখনই দেখা যায়, আমাদের দেশের এক শ্রেণির লোক, যারা জনশক্তির ব্যবসা করে, তারা তড়িঘড়ি করে লোক পাঠানোর চেষ্টা করে। এদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার কিছু লোকও সংযুক্ত আছে। যার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয়। প্রতিবারই যখন সরকার আলোচনা করে সমাধানে যায়, তখনই কিছু লোক ছুটে যায়, একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যারা যায় তাদের কাজের ঠিক থাকে না, চাকরিও ঠিক থাকে না, বেতনের ঠিক থাকে না, সেখানে গিয়ে বিপদে পড়ে। এটা শুধু মালয়েশিয়া না, অনেক জায়গায় ঘটে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, বার বার আমি দেশবাসীকে বলেছি জমিজমা, ঘরবাড়ি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা খরচ করার দরকার নেই। যদি দরকার হয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ঋণ থেকে নিতে পারেন। প্রয়োজনবোধে বিনা জামানতে ঋণ দেওয়া হবে। সেখানে তাকে সুনির্দিষ্ট করতে হবে সে যে যাচ্ছে তার চাকরিটা সুনির্দিষ্ট কি না, এটা হলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারপরও আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে, কে আগে যাবে, সেই দৌড় দিতে গিয়ে হাতা-খাতা, বাড়ি-ঘর সব বিক্রি করে, তারপরে পথে বসে। অথবা সেখানে যদি চলেও যায় বিপদে পড়ে। মানুষকে বলেছি, এভাবে না যেতে। সোজাসুজি নিয়ম মানলে এ বিপদের সৃষ্টি হয় না। তবে এবার যে সমস্যা হচ্ছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি, কেউ দায়ী থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্যালেস্টাইনে ইসরায়েলের অগ্রাসনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে

এদিকে জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাম্প্রতিককালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, প্যালেস্টাইনে ইসরায়েলের অগ্রাসনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আমাদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্ব শান্তির জন্য যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান অব্যাহতভাবে করে যাচ্ছি।
এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে আমরা শুরু থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ নেই। ফলে বৈশ্বিক অবস্থানে আমাদের অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও কোভিড-১৯ এর অভিঘাতের ফলে সারা পৃথিবীর ন্যায় আমাদের এখানেও বাস্তবায়ন কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। আমরা অত্যন্ত দক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি, জীবন ও জীবিকা সমুন্নত রেখে অর্থনীতিকেও এগিয়ে নিতে পেরেছি। তবে কোভিডের পর পরই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ ও যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে থাকে। মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব আমাদেরকেও বহন করতে হচ্ছে, যার প্রভাব সার্বিকভাবে এসডিজি বাস্তবায়ন গতিকেও শ্লথ করছে। আমরা মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় করে এটিকে মোকাবিলার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনে আবেদনকারী দেশ না হলেও অন্যতম ভুক্তভোগী দেশ। নিজস্ব অর্থে আমরা অভিযোজন সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তবে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (২০২৩-২০৫০) বাস্তবায়নে প্রয়োজন প্রায় ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আবার ২০৩০ সালের মধ্যে ন্যাশনাললি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি) বাস্তবায়নের জন্য ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।