বই ধার করে আজমিরা পেল জিপিএ-৫

860

দিয়া ফারহাত

১১ জুলাই, ঢাকা:

নাটোরের মেয়ে আজমিরা আক্তার এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুমাস সময় বাকি থাকতে বই কিনে ও বই ধার করে পড়ে পেল জিপিএ-৫। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার সপ্ন বুনছে সে। সেজন্য নিজে উপার্জন করে পড়ালেখা চালাতে হলেও পিছোপা হবেনা। অদম্য প্রচেস্টা চালিয়ে এগিয়ে যেতে চায় আজমিরা।
আজমিরার এই সাফল্য দেখে তার বাবা-মা উভয়ই খুশি। কিন্ত সেই সাথে তাদের মনে বিরাজ করছে অদূর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা ও সংশয়। তার মা সাবিনা আক্তার বলেন, ‘টাকার অভাবে বই কিনে দিতে না পারায় আজমিরার পড়াশোনাটাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো।তবে নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরে সে পরীক্ষা দিয়েছে।এখন কলেজে পড়াতে পারব কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
নাটোর শহরের পালপাড়ার বাসিন্দা আজমিরা ।স্থানীয় নববিধান উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবছরই এসএসসি পরীক্ষা দেয় সে।বাবা পোশাক কারখানায়ে স্বল্প বেতনে চাকরি করতেন।তাদিয়েই সংসার চলতো তাদের।কিন্তু এরইমাঝে চলে গেল বাবার চাকরি,সংসারের একমাত্র উপার্জন।তখন আজমিরা মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্রী।মা সাবিনা আক্তার সংসারের হাল ধরার জন্য সংগ্রহ করলেন একটি সেলাই মেশিন।সেটির মাধ্যমেই জামাকাপড় বানিয়ে যা আয় হয় তাতেই চলছিল তাদের জীবন।যেখানে দুবেলা খাবার খাওয়াই মুশকিল হয়ে যায়।তাই কেনা হওয়ে উঠে না তার পড়ার বই। এরপর আজমিরা নিজেও শুরু করে মেশিন দিয়ে কাপড় বানান।এভাবে একপর্যায়ে যখন অবশেষে আজমিরা টাকা জমাল বই কিনার জন্য তখন হাতে আর মাত্র দুমাস সময় বাকি এসএসসি পরীক্ষার।কিন্ত তাতেও হাল ছাড়েনি আজমিরা।লড়েছে শেষ সময় পর্যন্ত।
তার লেখাপড়া নিয়ে আজমিরা আক্তার জানায়,‘দশম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় বান্ধুবিদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে প্রথম আট মাস ক্লাস করেছে সে।নোট দিয়ে সহযোগিতা করেছেন শিক্ষকেরাও।পরীক্ষার আগে মাত্র দুইমাস সে নিজের বইপত্র নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।’
নববিধান উচ্ছবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমান গোবিন্দ বলেন,‘আজমিরা বরাবরই লেখাপড়ায় ভালো।প্রতিবছরই তার নাম সেরা শিক্ষার্থীদের তালিকায় থাকতো।ভবিষ্যতে একটু সহযোগিতা পেলে সে আরও ভালো করতে পারবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো
#
রূপশ্রী/এইচআর