নিত্যপণ্যের দ্রব্যাদি কেনাবেচা ৮ ঘন্টা, শপিংমলসহ দোকান বন্ধ

739

রূপশ্রী প্রতিবেদন,

এপ্রিল, ঢাকা:

আগামীকাল এপ্রিল (সোমবার) ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত ঘোষিত লকডাউনে প্রতিপালনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ১১টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এই সাতদিন শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। তবে দোকান, পাইকারি খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে কেনাবেচাকরতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বাবস্থায় কর্মচারীদের মধ্যে আবশ্যিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং কোনো ক্রেতা স্বশরীরে যেতে পারবেন না।

কাঁচাবাজার নিত্যপণ্যের দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই আট ঘণ্টা উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচাকরা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষস্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

এসব নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে আদেশে বলা হয়েছে, সারাদেশে জেলা মাঠ প্রশাসনএসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ১১টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেগুলি হলো : 

. সকল প্রকার গণপরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা, জরুরিসেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া, বিদেশগামী/বিদেশফেরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবেনা।

. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমনত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ইন্টারনেট, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী যানবাহন নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।

. সব সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত অফিস আদালত এবং বেসরকারি অফিস কেবল জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্যসীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় জনবলকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনানেওয়া করতেপারবে। শিল্পকারখানা নির্মাণ কার্যাদি চালু থাকবে। শিল্পকারখানার শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিবহন ব্যবস্থাপনায়আনানেওয়া করতে হবে। বিজিএমইএ বিকেএমইএকে শিল্পকারখানা এলাকায় কাছাকাছি সুবিধাজনক স্থানে তাদেরশ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল/চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

. সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ঔষধ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহদাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।

. খাবারের দোকান হোটেলরেস্তোরাঁয় কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই হোটেলরেস্তোরাঁয় বসেখাবার গ্রহণ করা যাবে না।

. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। তবে দোকান, পাইকারি খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে কেনাবেচা করতেপারবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বাবস্থায় কর্মচারীদের মধ্যে আবশ্যিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং কোনো ক্রেতা স্বশরীরে যেতেপারবে না।

. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করাযাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

. ব্যাংকিং ব্যবস্থা সীমিত পরিসরে চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

. সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ঢাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

১০. সারাদেশে জেলা মাঠ প্রশাসন এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিতটহল জোরদার করবে।

১১. এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রূপশ্রী / টি আর