রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করার পর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ জারি স্বাস্থ্য অধিদফতরের

700

রূপশ্রী প্রতিবেদন

ঢাকা : ছয় বছর আগে হাসপাতাল পরিচালনার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও করোনা চিকিৎসার ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে মার্চে তালিকাভুক্ত হয়েছিল রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতাল। কিভাবে সে অনুমোদন দেয়া হলো তা তদন্ত করে দেখবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এর আগে টেস্ট না করেই কোভিড-১৯ ‘পজিটিভ’ ও ‘নেগেটিভ’ সনদ দেয়াসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকাল সোয়া ৫টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি টিম সিলগালা করে দেয় রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়। অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা এটি সিলগালা করেছি। ২০১৪ সালে হাসপাতালটির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবুও তারা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে কিভাবে সনদ নিয়েছে বোধগম্য নয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

এদিকে এই ঘটনার পর রাজধানীর বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এরআগে গত সোমবার (৬ জুলাই) র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালটি করোনা টেস্টের স্যাম্পল সংগ্রহ করতো কিন্তু কোনও টেস্ট করতো না। মনগড়া রিপোর্ট দিতো। তিনি আরো বলেন, সরকারিভাবে যে টেস্টগুলো ফ্রি করার কথা সেই টেস্টের জন্য রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নিচ্ছে। সবচেয়ে জঘন্য যে কাজ করেছে সেটা হলো, টেস্ট না করে রিপোর্ট দেওয়া এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সিল ও প্যাড ব্যবহার করা। জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট বা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোস্যাল মেডিসিনসহ (নিপসম) যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্যাড ও সিল তারা ব্যবহার করেছে ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে সিল বা প্যাডগুলো তাদের নয়। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা চিকিৎসার নামে সরকারের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে আবার রোগীদের কাছ থেকেও মোটা অংকের বিল নিচ্ছে। অভিযানের সময় হাসপাতাল থেকে বিপুল পরিমাণ করোনার ভুয়া সনদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের আইসিইউ অত্যন্ত নিম্নমানের এবং তাদের হাসপাতাল ল্যাবের ফ্রিজে মাছভর্তি। অভিযানের সময় হাসপাতালটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হবে। এছাড়া সিআইডিকে মানি লন্ডারিং মামলার জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের

এদিকে র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ায় অবিলম্বে এর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. আমিনুল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেড, উত্তরা এবং রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেড, মিরপুর ঢাকা (উভয় বেসরকারি হাসপাতাল), গত মার্চ থেকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিল। কিন্তু গত ৬ জুলাই র‌্যাবের অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেড, উত্তরা শাখায় (মূল শাখা) বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে, যা বিভিন্ন ইলেকট্রিক মিডিয়া এবং দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, ওই হাসপাতাল দু’টি রোগীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে বিরাট অংকের টাকা আদায় করছে। অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, তাগিদ প্রদান করা সত্ত্বেও লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ আরও অনিয়ম করেছে বলে প্রমাণিত হয়। উল্লেখিত অনিয়মের কারণে এবং দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স -১৯৮২ অনুযায়ী হাসপাতালের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলো।

অভিযানের আগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কখনও নমুনা সংগ্রহ করি না। এ বিষয়ে আমরা বারবার আমাদের ফেসবুক পেজ ও বিভিন্নভাবে সতর্ক করে আসছি। আমরা বারবার বলেছি, রিজেন্টের নামে একটি ভুয়া চক্র কাজ করছে।

#

রূপশ্রী/এইচআর