মা ফাতিমাকে কী সত্যি হত্যা করতে চাওয়া হয়েছিল? নবী দুহিতার শাহাদাৎ দিবস আজ

447

রূপশ্রী ডেস্ক
১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ঢাকা: আজ হিজরি সনের ৩ জমাদিউস সানি। হজরত ফাতিমা (রা.)’র শাহাদাৎ দিবস।
আল্লাহর প্রিয় নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মাদ (সা.)’র প্রাণপ্রিয় কন্যা হজরত ফাতিমা জাহরা এই দিনে ইন্তিকাল করেন। ফাতিমা রা জীবনীকাররা তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও সুন্নি ইতিহাসেও কিন্তু তাঁর আহত হওয়ার ঘটনা পাওয়া যায়। জানা যায়, স্বেচ্ছায় বায়াত গ্রহণের জন্য আসতে রাজী না হলে বল প্রয়োগের সিধান্তের প্রেক্ষিতে সেদিন কতিপয় উগ্র উম্মতে মুহাম্মদী জবরদস্তিমূলকভাবে হজরত আলী রা. ঘরের দরোজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করতে করে। ওই সময় ফাতিমা রা. দরোজার নিচে চাপা পড়েন। তিনি ছিলেন অন্তঃস্বত্তা। ফলে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন এবং তাতে পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। রক্তক্ষরণে তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে যান এবং মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া আক্রমণের ঐ সময় উগ্রবাদীরা নবীজীর জামাতাকে ঘরের দরোজা খুলতে বাধ্য করার জন্য মাটির ঘরের খেজুরের ডালের ছাউনিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে হজরত ফাতিমা রা হাতের খানিক অংশ পুড়ে যায়। এসব কারণে এই মৃত্যুকে শহিদী মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়।
সুন্নি মুসলমানরা হজরত ফাতিমা রা. মৃত্যু নিয়ে খুব বেশী আলোচনা করেনা। কারণ তারা মনে করেন এতে নবীজীর সাহাবায়ে কেরামদের সমালোচনা করা হয়ে যাবে। তবে আহলে বাইতের অনুসারী সুন্নি মুসলমানরা (তরিকতপন্থী) সাহাবায়ে কেরামদের সমালোচনা না করেও পবিত্র কোরআনের হুকুম অনুযায়ী নবীজীর স্বজনদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শণ করতে বেহেস্তি নারীদের সর্দার বা নেতা হিসেবে হজরত ফাতিমা রা এঁর জীবনী আলোচনা করে তাঁর জন্য ছওয়াব রেশানী করে থাকেন।


শিয়ারে আলী বা আলী রা. অনুসারী গ্রুপ মুসলিম বিশ্বে শিয়া হিসাবে পরিচিত। তারা এই দিনটি শোক ও শাহাদৎ বার্ষিকী হিসাবে অতন্ত্য গুরুত্ব সহকারে দিনটি পালন করে থাকে।
হজরত ফাতিমা রা এঁর শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইরান সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠান পালন করে থাকে। এবারের শোকানুষ্ঠানের প্রথম রাতে অংশ নিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী (রহ.)।

তেহরানে ইমাম খোমেনী (রহ.) হোসাইনিয়াতে আয়োজিত গত বৃহস্পতিবার রাতের শোকানুষ্ঠানে এছাড়াও ঐ অনুষ্ঠানে কুরআন তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারি মোহাম্মাদ রেজা পুরজারগারি। বক্তব্য রাখেন
ইরানের প্রখ্যাত ধর্মীয় বক্তা হুজ্জাতুল ইসলাম কাজেম সিদ্দিকি। তিনি আল্লাহর পথে সংগ্রাম বিষয়ক একটি আয়াত তুলে ধরে বলেন, হজরত ফাতিমা (আ.) আল্লাহর পথে সংগ্রামের ক্ষেত্রে আদর্শ দৃষ্টান্ত। তিনি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য সব কিছু স্পষ্ট করার কাজ সুচারুভাবে পালন করে গেছেন।
শোকানুষ্ঠানে ‘তাওয়াস্সুল’ দোয়া পড়েন মাহদি সামাওয়াতি এবং শোকগাথা পাঠ করেন মাহদি রাসুলি।