ফিটনেস এবং ক্ষতিকর স্লিমিং ক্যাপসুলের কিছুকথা

1277

নেহা রেজওয়ান

এই যে শাড়ি পড়া ছবিগুলো ৪ বছর আগে ৯১ কেজির স্মৃতিবিজড়িত আনহেলদি লাইফে বাস করা এবং লাগামহীন ভাবে গামলা গামলা খেতে পছন্দ করা, ফুডি লাইফ থেকে উঠে আসা এক মেয়ের মোটুকালের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি । মেয়েটা তার ঐ অতীত বহু আগে ছেড়ে আসছে যেখানে সে আর বাস করেনা ।

এবার আসল কথায় আসি, আচ্ছা আমাকে বলুন তো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিয়ের সময় হলেই আমরা- স্পেশ্যালি মেয়েরা কেন নিজেদের ওজন কমাতে উঠেপড়ে লাগি ? বছরের বাকি সময়গুলো কি ঠেসে খাওয়ার জন্য মোটু হয়ে থাকা ফরয ? নাকি পাত্রপক্ষ মোটা দেখে নাক সিটকায় ? আচ্ছা সব বাদ দিন, শুধু বলুন এই চিন্তা কি আরো আগে করা উচিত ছিল না ? শুধু বিয়ের সময়ই কেন করতে হবে ? আমাকে বলুন বিয়ের পর কি করবেন ? আবার এখানে ওখানে দাওয়াত খেয়ে মোটু হবেন তখন কি পাত্র নাক সিটকাবে না ?

আজকাল বিয়ে শব্দটা মেয়েদের কাছে মানুষিকভাবে যতটাই না আতংকের শারীরিকভাবে এর ডাবল টেনশনের হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এরই সুবিধা নিয়ে ঔষধ কোম্পানীগুলো বিভিন্ন নামে স্লিমিং সাপ্লিমেন্ট তৈরী করে আর পাশের ঔষধের দোকানগুলি তাক ভরে রাখছে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে আবার এগুলির উপকারিতার কথা বলে কতজনের মাথা ধোলাই করছে। তাহলে কি ঐসব শুনেই আপনি সাপ্লিমেন্ট কিনবেন ? আমরা অনেকেই টিভি বিজ্ঞাপনকে শুধু বিজ্ঞাপনই মনে করি, আসলে এই বিজ্ঞাপনের কারণেই মুখে মুখে প্রোডাক্টের নাম আর ব্যবসায়িক প্রসার দ্রুত বাড়ে এবং এভাবেই কোম্পানীগুলো মানুষের মগজ তাদের অজান্তেই দখল করে নেয়।

শুধু বিয়ে বলেই নয়, সুস্থ্য আর ফিট থাকতে আপনি হাঁটুন, দৌড়ান, সিড়ি বেয়ে উপরে উঠুন, সাঁতার কাটুন, অন্তত: দু’দিনে একদিন ইয়োগা করুন, খেলাধুলা করুন, অথবা জিমে যান। আর গায়ে একটু রোদ লাগান। অসংখ্য পথ খোলা। চর্বিজাত খাবার এবং ফার্ষ্টফুড, পরিশোধিত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন। দানাদার খাবার যেমন লাল চাল, লাল আটা, ছোলা, বাদাম, কিসমিস, ডাল, বিচি, মটরশুটি এসব খাবেন। ক্যালসিয়াম যুক্ত বিশেষ করে বিভিন্ন সবজি, তিল, আমলকি ও খেজুর খান।  রিফাইন্ড কার্বহাইড্রেড (যেমন ময়দা), লবণ আর জাঙ্ক ফুড থেকে যত দূরে থাকবেন ক্যালসিয়ামের অভাব তত কাটাতে পারবেন। পটেটো চিপস, টেস্টিং সল্টও ক্ষতিকর।  অনেক দেশেই টেস্টিং সল্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাতে ক্যান্সার উৎপাদনকারী উপাদান থাকে বলে। ফিট আর স্লিম থাকার জন্যে বাজারের এসব স্লিমিং ক্যাপসুল খাওয়ার চেয়ে আপনার যা প্রয়োজন, তা কিন্তু নিমেষেই আপনার পরিশ্রমের বিনিময়ে পাবেন। অল্প সময়ে স্লিম হওয়ার লোভে পড়ে ক্ষতিকর সাপ্লিমেন্ট কিনে খাবেন না। নিয়মিত মেডিটেশন করুন, শরীরকে সচল রাখার জন্যে ইয়োগা করুন ও হাটুন, জিমে যান, এক্সপার্ট ট্রেইনার দ্বারা নিজেকে ফিট রাখুন। সুস্থ আর কর্মক্ষম জীবনে ভাল থাকুন।

ইনফ্যাক্ট সবসময়ই ফিটনেস নিয়ে চিন্তা করুন। অতিরিক্ত মেদ শুধু আপনার বিয়ের পথেই বাধা না। বিয়ের পর  একজোড়া দম্পতির বেবি প্ল্যান, মেয়েদের শরীরে মারাত্নক বিপজ্জনক সব সিস্ট, কোলেস্ট্রল, জয়েন্ট পেইন, হার্টের প্রব্লেমের মত বড় বড় বাধা ফেস করতে হয় । আর বিয়ের আগেই যদি নানা রোগ শরীরে বাসা বেঁধে আপনাকে কব্জা করে তখন বিয়ে নামক শব্দটাই না আপনার জীবনে কান্না হয়ে দাঁড়ায়। খাবার কন্ট্রোল করতে না পারলে ভবিষ্যতে এসব বাধা মোকাবিলা করতে গিয়ে পদে পদে কান্না করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন।

মনে রাখবেন, বিয়ের কারণ দেখিয়ে জোরপূর্বক তিন মাসের মধ্যে ২০ কেজি কমাবো কিভাবে ? কমাতেই হবে, কি কি করবো ? না কমলে বিয়েতে লেহেঙ্গা পড়লে কেমন বেখাপ্পা দেখাবে ? ইয়াল্লাহ ফোটোগ্রাফারের ছবিতে নিজেকে কিযে বিশ্রী লাগবে এসব ভেবে ক্ষতিকর সব স্লিমিং সাপ্লিমেন্ট আর ক্রাশ ডায়েটের নামে সফলতার স্বপ্নে বিভোর হয়ে যতই শর্টকাটের যে রাস্তায়ই নামুন না কেনো, আগে পরে শরীরের ক্ষতিকর প্রভাব নিজেই ফিল করবেন আর তখন অবশ্যই মনে করতে ভুলবেন না যে “সফলতার রাস্তা কখনও শর্টকাট হয়না। সফলতা কখনও শর্টকাটে আসেনা।”

সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার, জিম গার্ল, ফিটনেস এন্থুসিয়াস্ট, পারসোনাল লাইফস্টাইল ব্লগার

রূপশ্রী/এসএম