নারী হওয়ার কারণে বারবার শুনতে হয়েছে যোগ্যতা ছিল কিনা: ডা. দীপু মনি

879

রূপশ্রী প্রতিবেদন,

সোমবার (৮ মার্চ), ঢাকা:

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি বলেছেন, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চেয়ারে সাংবাদিকরা সব সময় বয়স্ক একজন পুরুষকে দেখেই আসছেন। কিন্তু এই পদে হঠাৎ একজন নারী আসায়, যিনি তখন খুব বেশি বয়স্ক নন, সেটা দেখে একটা ধাক্কা লাগতেই পারে। কিন্তু আমার আগে বা পরে কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা সেই প্রশ্ন কোনও সাংবাদিক বন্ধু করেননি। আমার আগে বা পরে কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা সেই প্রশ্ন কোনও সাংবাদিক বন্ধু করেননি। আমার নামের সঙ্গে অনেক এ বি সি ডি লাগানো থাকলেও আমাকে সেটা শুনতে হয়েছে। এটি বারবার শুনতে হয়েছে এবং সব নারীকেই শুনতে হয়।

রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, কবি হাসান হাফিজ, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, নারীনেত্রী মাহমুদা চৌধুরী প্রমুখ।

দীপুমনি আরও বলেন, নারীর প্রতি প্রতিহিংসার অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণকে প্রয়াগ করা হয় সারা বিশ্বে। নির্যাতনের শিকার নারীর প্রতি সমাজে আরেক প্রকার নির্যাতন হয়। আর তা হলো, সারাটা জীবন তাকে অস্পৃশ্য ভাবা হয়। এটি একটি চরম বৈষম্য। তিনি আরো বলেন, ধর্ষক বিচারের রায়ে শাস্তি পায়। কিন্তু যে নারী ধর্ষণের শিকার হয় তার জন্য প্রতিদিনই মৃত্যুদন্ড। সমাজে তাকে অস্পৃশ্য ভাবা হয়। এটা পুরোপুরি মানসিকতার ব্যাপার।

ডা. দীপুমনি বলেন, একাত্তরে যা হয়েছিল তার থেকে ঘৃণ্য একটি জায়গায় আমরা পৌঁছেছি। ভাষা একটি খুব জরুরি বিষয়। আমরা ভাষা দিয়ে কীভাবে একটি নারীকে দাবিয়ে রাখি। যখন কেউ ধর্ষণের শিকার হয় আমরা বলি সম্ভ্রমহানি হয়েছে। আমাকে কুকুর কামড় দিলে তো সম্ভ্রমহানি হয় না। একটা পুরুষ ধর্ষণ করলে একটা নারীর কীভাবে সম্ভ্রমহানি হয়? সম্ভ্রমহানি তো সেই পুরুষের হওয়ার কথা। আমরা কেন সম্ভ্রমহারা পুরুষ বলি না ধর্ষককে?

রূপশ্রী/দেশ/এইচবি