ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল: আঘাত সন্ধ্যায়, ১০ নং মহাবিপদ সংকেত জারি

331

রুপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। গতি বাড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে আসছে উপকূলের দিকে। উপকূল থেকে মাত্র ২৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমালের কেন্দ্রে ‘চোখ’ অবয়ব দেখা গেছে। ফলে এটি ব্যাপক শক্তি নিয়ে উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ সন্ধ্যা নাগাদ মোংলার কাছ দিয়ে বাংলাদেশের পটুয়াখালীর খেপুপাড়া উপকূল এবং পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর । এরই মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর আগেই জানিয়েছিল, উপকূলে আঘাত হানার সময় এর গতিবেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ১৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সুন্দরবন উপকূলসহ মোংলায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এখনও বহাল রয়েছে। এরইমধ্যে বৃষ্টিসহ দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে পুরো সুন্দরবন।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত প্লাবিত হতে পারে। যদি জোয়ার থাকে, তাহলে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রবিবার (২৬ মে) সচিবালয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতির আন্তমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, রিমালের প্রভাবে সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে দুর্যোগ মোকাবিলা ও দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আট লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। বাকিদের আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে আপাতত স্কুল খোলা থাকবে। তবে ক্লাস বন্ধ থাকবে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গতকাল শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ঝড়ের বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার ছিল, যা সকালে প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ বেড়ে এখন ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
রবিবার (২৬ মে) দুপুরে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্র ও পর্যটন স্পটের ওসি আজাদ কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে চার ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। পানির চাপ আরও বাড়বে। তবে বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতির কোনও আশঙ্কা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পুরো সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে থাকা বনরক্ষীদের এরইমধ্যে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।’
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে এরইমধ্যে মোংলা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র শেখ আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি কাজ ও রোগীদের কথা চিন্তা করে মোংলা নদীতে ফেরি চালু রাখা হয়েছে।’ পৌর শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনকে আনতে ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এটি রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ সুন্দরবন ও মোংলা উপকূল অতিক্রম করে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় আছড়ে পড়বে।