উপকূলে আতঙ্ক রাতেই ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে, বন্দরগুলোতে ৩ সতর্কসংকেত

516

রুপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি আজ শনিবারআজ রাতেই এ গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এই খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে। এদিকে আবহওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল দুপুরের পর থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাব পড়তে পারে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ে নাম দেওয়া হয়েছে রিমাল। এর অর্থ হলো বালু। নামটি ওমানের দেওয়া।

এরমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ছয় জেলাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ বিকেলে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করেছে।আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ঘোষণা হলে পরিস্থিতির বিবেচনায় সংকেত পাল্টে যাবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. শামীম আহসান জানান, আজ রাতেই গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আর দেশে এর অগ্রভাগের প্রভাব আগামীকাল দুপুরের পর থেকেই পড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সর্বশেষ ৬ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় থাকা গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে একই এলাকায় আছে। এটি আজ সকাল নয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।